CLASS NO: 07
সেন্ট্রোজোম (Centrosome)
সেন্ট্রোজোম কাকে বলে? এর অবস্থান কোথায়?
ইউক্যারিওটিক প্রাণীকোশের সাইটোপ্লাজমে, স্থিতিশীল নিউক্লিয়াসের পাশে অবস্থিত, দুটি সেন্ট্রিওল সমন্বিত, ক্ষুদ্র, তারকাকার, পর্দাবিহীন, ঘন যে কোশ-অঙ্গাণু, কোশ বিভাজনের সময়ে বেম (spindle) গঠনে সাহায্য করে, তাকে সেন্ট্রোজোম বলে।
অবস্থান:
- প্রাণীকোশের নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি অংশে থাকে।
- প্রায় প্রতিটি প্রাণীকোশে এদের দেখা যায় (ব্যতিক্রম-নিউরোন)।
- স্বল্পসংখ্যক ব্যতিক্রমী উদ্ভিদকোশে (যেমন- ক্ল্যামাইডোমোনাস) সেন্ট্রোজোম থাকে।
সেন্ট্রোজোমের গঠন বর্ণনা করো
সেন্ট্রোজোম প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত:
- সেন্ট্রিওল:
- সেন্ট্রোজোমের মধ্যে পরস্পর সমকোণে অবস্থিত দুটি ঘন উজ্জ্বল কণিকাকে সেন্ট্রিওল বলে।
- সেন্ট্রিওল দুটিকে একত্রে ডিপ্লোজোম বলে।
- প্রতিটি সেন্ট্রিওল দুমুখ খোলা পিপের মতো।
- সেন্ট্রিওলের প্রাচীর 9টি ত্রয়ী (triplet) অণুনালিকা দ্বারা গঠিত।
- সেন্ট্রোস্ফিয়ার:
- সেন্ট্রিওলকে ঘিরে দানাহীন সাইটোপ্লাজমের যে সমসত্ত্ব ধাত্র থাকে, তাকে সেন্ট্রোস্ফিয়ার বলে।
- কোশ বিভাজনকালে সেন্ট্রোস্ফিয়ার থেকে আলোকরশ্মির মতো ছড়ানো অণুনালিকাগুলিকে অ্যাস্ট্রাল রশ্মি বলে।
সেন্ট্রোজোমের কাজ লেখো
- বেমতন্ডু (spindle) গঠনের মাধ্যমে কোশ বিভাজনে সহায়তা করে।
- ক্রোমোজোমের প্রান্তীয় চলনে সহায়তা করে।
- কোশে ফ্ল্যাজেলা ও সিলিয়া গঠন করে।
- সেন্ট্রিওল শুক্রাণুর পুচ্ছ গঠনে অংশ নেয়।
মাইক্রোটিউবিউল (Microtubule)
মাইক্রোটিউবিউল কাকে বলে?
সজীব ইউক্যারিওটিক কোশের সাইটোপ্লাজমে টিউবিউলিন প্রোটিন নির্মিত ফাঁপা, অশাখ, নলাকার যে-সমস্ত গঠন কোশের অন্তঃকাঠামো (সাইটোস্কেলিটন), সিলিয়া, ফ্ল্যাজেলা, বেম সৃষ্টিতে, কোশের ভারবহনে এবং কোশীয় চলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে, তাদের অণুনালিকা বা মাইক্রোটিউবিউলস বলে।
মাইক্রোটিউবিউলের গঠন সম্পর্কে ধারণা দাও
- প্রতিটি মাইক্রোটিউবিউল ফাঁপা, শাখাবিহীন ও নলাকার।
- প্রতিটি মাইক্রোটিউবিউলের ব্যাস 250Å (25 nm)।
- নলের প্রাচীর 60Å পুরু এবং 13টি অধঃএকক (প্রোটোফাইব্রিল) দ্বারা গঠিত।
- প্রতিটি প্রোটোফাইব্রিলের প্রাচীর দু’প্রকার প্রোটিন (α-টিউবিউলিন ও β-টিউবিউলিন) দ্বারা গঠিত।
- α ও β টিউবিউলিন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টিউবিউলিন-ডাইমার গঠন করে, ডাইমারগুলি পরস্পর পেঁচিয়ে অবস্থান করে।
মাইক্রোটিউবিউলের কাজ লেখো
- সাইটোস্কেলিটন গঠন: কোশের কঙ্কালের অন্যতম প্রধান উপাদান।
- অন্তঃকোশীয় পরিবহণ: কোশের মধ্যে জল, খনিজ লবণ, খাদ্য প্রভৃতির স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ করে।
- গঠনগত উপাদান: বেমতত্ত্ব, সেন্ট্রিওল, বেসাল বডি, সিলিয়া, ফ্ল্যাজেলা, শুক্রাণুর পুচ্ছ গঠনে অংশগ্রহণ করে।
কোশতত্ত্বের তিনটি ব্যতিক্রম কারণসহ উল্লেখ করো
| ব্যতিক্রম |
কারণ |
| ভাইরাস |
নির্দিষ্ট প্রোটোপ্লাজমবিহীন ও বিভিন্ন উপাদানের সংযুক্তির মাধ্যমে ভাইরাস সৃষ্টি হয়। |
| শৈবাল, ভাউচেরিয়া |
আদর্শ নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত। একটি কোশ কিন্তু একাধিক নিউক্লিয়াস রয়েছে। |
| নীলাভ-সবুজ শৈবাল |
আদর্শ নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত। |
ক্রোমোপ্লাস্টিডের প্রধান কাজ ও বিভিন্ন প্রকার ক্রোমোপ্লাস্ট
প্রধান কাজ: বিভিন্ন রঙের ক্রোমোপ্লাস্ট কীটপতঙ্গকে আকর্ষণ করে পরাগসংযোগ এবং ফল ও বীজের বিস্তারে সাহায্য করে।
| ক্রোমোপ্লাস্ট |
রঞ্জক পদার্থ |
| জ্যান্থোপ্লাস্ট (হলুদ) |
জ্যান্থোফিল |
| ক্যারোটিনোপ্লাস্ট (কমলা) |
ক্যারোটিন |
| রোডোপ্লাস্ট (লাল) |
ফাইকোএরিথ্রিন |
| ফিওপ্লাস্ট (বাদামি) |
ফিউকোজ্যান্থিন |
তিন প্রকার লিউকোপ্লাস্টের প্রাপ্তিস্থল ও সঞ্চিত খাদ্যের প্রকৃতি
| লিউকোপ্লাস্ট |
প্রাপ্তিস্থল |
সঞ্চিত খাদ্যের প্রকৃতি |
| অ্যামাইলোপ্লাস্ট |
ভূনিম্নস্থ কাণ্ড (যেমন আলু) |
শ্বেতসার |
| অ্যালিউরোনপ্লাস্ট |
বীজ |
প্রোটিন |
| এলাইওপ্লাস্ট |
তৈলবীজ |
স্নেহপদার্থ |
মাইক্রোস্কোপ (Microscope) বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র
সংজ্ঞা
যে যন্ত্রের সাহায্যে অতিক্ষুদ্র বস্তুর বহুগুণ বড়ো প্রতিবিম্ব তৈরি করা যায় এবং পাশাপাশি অবস্থিত দুটি বিন্দুকে পরস্পর থেকে পৃথক করা যায়, তাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
ইতিহাস
- হল্যান্ডের ফ্রান্সিস জ্যানসেন ও জ্যাকোরয়াস জ্যানসেন 1590 খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- 1665 খ্রিস্টাব্দে রবার্ট হুক ও 1674 খ্রিস্টাব্দে লিভেনহুক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উন্নতি ঘটান।
প্রকারভেদ ও ব্যবহার
- সরল আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র:
- আলোক উৎস ও একটি মাত্র লেন্সের ব্যবহার হয়।
- 15-20 গুণ বড়ো করে দেখা যায়।
- যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র:
- অকিউলার লেন্স, অবজেকটিভ লেন্স ও আয়না ব্যবহার করে।
- 2000 - 50,000 গুণ বড়ো করে দেখা যায়।
- ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র:
- কোনো বস্তুকে 50,000-3,00,000 গুণ বড়ো করে দেখা যায়।
- লেন্স থাকে না।
- উৎপন্ন প্রতিবিম্ব ফোটোগ্রাফিক ফিল্মের সাহায্যে দেখা যায়।
ধন্যবাদ