Biology: কোশ

দিন/রাত

CLASS NO: 04

নিউক্লিয়াস (Nucleus)

নিউক্লিয়াস কাকে বলে?

ইউক্যারিওটিক কোশের প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, প্রায় গোলাকার, লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি দুটি একক পর্দা দিয়ে ঢাকা যে অংশ বংশগত পদার্থ বা DNA বহন করে এবং কোশের যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিউক্লিয়াস বলে।

নিউক্লিয়াসের রাসায়নিক উপাদান

নিউক্লিয়াসের গঠন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো

আদর্শ নিউক্লিয়াস চারটি অংশ নিয়ে গঠিত:

  1. নিউক্লিয় পর্দা (Nuclear membrane)
  2. নিউক্লিওপ্লাজম (Nucleoplasm)
  3. নিউক্লিয় জালিকা (Nuclear reticulum/Chromatin network)
  4. নিউক্লিওলাস (Nucleolus)

1. নিউক্লিয় পর্দা (Nuclear Membrane):

2. নিউক্লিওপ্লাজম (Nucleoplasm):

3. নিউক্লিয় জালিকা (Nuclear reticulum/Chromatin network):

4. নিউক্লিওলাস (Nucleolus):

নিউক্লিয়াসের কাজগুলি আলোচনা করো

  1. বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ: উৎসেচক সংশ্লেষের মাধ্যমে কোশের যাবতীয় বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য নিউক্লিয়াসকে 'কোশের মগজ' (Brain of the Cell) বলে।
  2. বংশগত তথ্যের ভান্ডার: নিউক্লিয়াসে জীবদেহের বংশগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত থাকে।
  3. RNA সংশ্লেষ: নিউক্লিওলাসে RNA সংশ্লেষ ঘটে।
  4. কোশবিভাজন: কোশবিভাজনে নিউক্লিয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  5. বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণ: নিউক্লিয়াসের DNA-এর মাধ্যমে জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।
  6. প্রকরণ বা ভেদ সৃষ্টি: নিউক্লিয়াসস্থিত ক্রোমোজোমের গঠন ও সংখ্যার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

নিউক্লিয়াসের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কোশের শ্রেণিবিভাগ

সেন্ট্রাল ডগমা (Central Dogma)

DNA → (রেপ্লিকেশন) → DNA

DNA → (ট্রান্সক্রিপশন) → RNA

RNA → (ট্রান্সলেশন) → প্রোটিন

RNA → (রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন) → DNA

মাইটোকনড্রিয়া (Mitochondria)

মাইটোকনড্রিয়া কাকে বলে?

সজীব কোশের (বিশেষত ইউক্যারিওটিক কোশ) নিউক্লিয়াসবিহীন সাইটোপ্লাজমে ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা, লিপিড ও প্রোটিন নির্মিত দ্বি-একক পর্দাবেষ্টিত গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা সূত্রাকার অঙ্গাণু, যা সবাত শ্বসনে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে এবং কোশের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে, তাদের মাইটোকনড্রিয়া বলে।

মাইটোকনড্রিয়ার গঠন সম্পর্কে ধারণা দাও

1. দ্বি-একক পর্দা:

2. প্রকোষ্ঠ:

3. ধাত্র (Matrix):

4. ক্রিস্টি (Cristae):

5. গ্রানিউলস দানা (Granules):

মাইটোকনড্রিয়ার কাজগুলি লেখো

  1. সবাত শ্বসন: ধাত্র ও পর্দাস্থিত উৎসেচকের সাহায্যে খাদ্যবস্তুর সম্পূর্ণ জারণ ঘটায় ও শক্তির মুক্তি ঘটে।
  2. কোশের শক্তিঘর: সবাত শ্বসনে ক্রেবস চক্রের মাধ্যমে ATP উৎপাদন হয়। এজন্য মাইটোকনড্রিয়াকে 'কোশের শক্তিঘর' (Powerhouse of the Cell) বলে।
  3. জৈব অণু সংশ্লেষ: সাইটোক্রোম, ক্লোরোফিল, পিরিমিডিন, স্টেরয়েড প্রভৃতি জৈব অণু সংশ্লেষের জন্য উপাদান সরবরাহ।
  4. কুসুম উৎপাদন: ডিম্বাণুতে কুসুম (Yolk) উৎপাদনে সাহায্য করে।
  5. ফ্যাটি অ্যাসিড বিপাক: মাইটোকনড্রিয়াতে ফ্যাটি অ্যাসিডের β-জারণ ঘটে।
  6. অ্যামিনো অ্যাসিড সংশ্লেষ: কিটোগ্লুটারিক অ্যাসিড থেকে গ্লুটামিক অ্যাসিড, অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড থেকে অ্যাসপারটিক অ্যাসিড সংশ্লেষিত হয়।

প্লাস্টিড (Plastid)

প্লাস্টিড কাকে বলে? প্লাস্টিডের প্রকারভেদগুলি আলোচনা করো

প্রধানত উদ্ভিদকোশে ও সালোকসংশ্লেষকারী প্রোটিস্টান কোশে দ্বি-একক পর্দাবৃত, গোলাকার, ডিম্বাকার বা সূত্রাকার বৃহত্তম কোশীয় অঙ্গাণু, যা খাদ্য সংশ্লেষ ও খাদ্য সঞ্চয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে, তাকে প্লাস্টিড বলে।

প্লাস্টিডের প্রকারভেদ:

রঞ্জকের উপস্থিতি ও কাজ অনুযায়ী প্লাস্টিডকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:

  1. ক্লোরোপ্লাস্টিড (Chloroplast)
  2. ক্রোমোপ্লাস্টিড (Chromoplast)
  3. লিউকোপ্লাস্টিড (Leucoplast)

প্লাস্টিডের প্রকারভেদগুলি আলোচনা করো

1. ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)

2. ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast)

3. লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast)

ধন্যবাদ