Biology: কোশ

দিন/রাত

CLASS NO: 03

সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)

সাইটোপ্লাজম কী?

সজীব কোশে কোশপর্দা থেকে নিউক্লিয়পর্দা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশে যে অর্ধস্বচ্ছ, দানাদার, কোলয়েড প্রকৃতির জেলির মতো তরল পদার্থ উপস্থিত থাকে, তাকে সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm; Kytos = ফাঁপা, plasma = গঠন) বলে।

সাইটোপ্লাজমের গঠন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।

সাইটোপ্লাজম প্রধানত দুটি উপাদান দ্বারা গঠিত:

  1. সাইটোপ্লাজমীয় ধাত্র বা সাইটোসল (Cytosol)
  2. সাইটোপ্লাজমীয় বস্তু বা ট্রোফোপ্লাজম (Trophoplasm)

1. সাইটোপ্লাজমীয় ধাত্র (Cytoplasmic matrix/Cytosol):

2. সাইটোপ্লাজমীয় বস্তু (Cytoplasmic body):

সাইটোপ্লাজমীয় ধাত্রে উপস্থিত সমস্ত সজীব কোশীয় অঙ্গাণু ও কোলয়েড পদার্থকে সাইটোপ্লাজমীয় বস্তু বা ট্রোফোপ্লাজম বলে।

সাইটোপ্লাজমের উপাদানসমূহ

সাইটোপ্লাজমের কাজগুলি লেখো

  1. আন্তঃকোশীয় বণ্টন: কোশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিপাকজাত পদার্থ, উৎসেচক, পুষ্টিপদার্থ প্রভৃতি বণ্টনে সাহায্য করে।
  2. পদার্থের আদান-প্রদান: বিভিন্ন কোশীয় অঙ্গাণুর মধ্যে প্রয়োজনীয় উপাদানের আদান-প্রদানে সাহায্য করে।
  3. বিক্রিয়ার সংগঠন স্থান: গ্লাইকোলাইসিস, অবাত শ্বসন প্রভৃতি প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়।
  4. জৈব সংশ্লেষ: প্রোটিন, নিউক্লিওটাইড, ফ্যাটি অ্যাসিড প্রভৃতি জৈব অণু সংশ্লেষিত হয়।
  5. কোশ বিভাজন: নিউক্লিও-সাইটোপ্লাজমিক আন্তঃক্রিয়া ও আয়তনের অনুপাত নিয়ন্ত্রিত হয়।
  6. সাইটোপ্লাজমীয় গতি: সাইক্লোসিস দ্বারা কোশীয় অঙ্গাণুর সঞ্চালন ও অ্যামিবার ক্ষণপদ সৃষ্টি সম্ভব হয়।

নিউক্লিয়াস (Nucleus)

নিউক্লিয়াস কাকে বলে?

ইউক্যারিওটিক কোশের প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, প্রায় গোলাকার, লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি দুটি একক পর্দা দিয়ে ঢাকা যে অংশ বংশগত পদার্থ বা DNA বহন করে এবং কোশের যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিউক্লিয়াস বলে।

নিউক্লিয়াসের রাসায়নিক উপাদান

নিউক্লিয়াসের গঠন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো

আদর্শ নিউক্লিয়াস চারটি অংশ নিয়ে গঠিত:

  1. নিউক্লিয় পর্দা (Nuclear membrane)
  2. নিউক্লিওপ্লাজম (Nucleoplasm)
  3. নিউক্লিয় জালিকা (Nuclear reticulum/Chromatin network)
  4. নিউক্লিওলাস (Nucleolus)

1. নিউক্লিয় পর্দা (Nuclear Membrane):

2. নিউক্লিওপ্লাজম (Nucleoplasm):

3. নিউক্লিয় জালিকা (Nuclear reticulum/Chromatin network):

4. নিউক্লিওলাস (Nucleolus):

নিউক্লিয়াসের কাজগুলি আলোচনা করো

  1. বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ: উৎসেচক সংশ্লেষের মাধ্যমে কোশের যাবতীয় বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য নিউক্লিয়াসকে 'কোশের মগজ' (Brain of the Cell) বলে।
  2. বংশগত তথ্যের ভান্ডার: নিউক্লিয়াসে জীবদেহের বংশগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত থাকে।
  3. RNA সংশ্লেষ: নিউক্লিওলাসে RNA সংশ্লেষ ঘটে।
  4. কোশবিভাজন: কোশবিভাজনে নিউক্লিয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  5. বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণ: নিউক্লিয়াসের DNA-এর মাধ্যমে জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।
  6. প্রকরণ বা ভেদ সৃষ্টি: নিউক্লিয়াসস্থিত ক্রোমোজোমের গঠন ও সংখ্যার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

নিউক্লিয়াসের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কোশের শ্রেণিবিভাগ

সেন্ট্রাল ডগমা (Central Dogma)

DNA → (রেপ্লিকেশন) → DNA

DNA → (ট্রান্সক্রিপশন) → RNA

RNA → (ট্রান্সলেশন) → প্রোটিন

RNA → (রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন) → DNA

ধন্যবাদ