CLASS NO: 01
কোশ (Cell) কাকে বলে?
সজীব পর্দাবৃত প্রোটোপ্লাজম সমুন্বিত যে ক্ষুদ্রতম অংশ অনুকূল পরিবেশে স্বপ্রজননক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল এবং জীবনের প্রাথমিক গঠনগত ও কার্যগত এককরূপে কাজ করে, তাকে কোশ বলে।
কোশবাদ (Cell Theory)
- 1665 সালে রবার্ট হুক (Robert Hooke) কর্ক কোশ পর্যবেক্ষণ করে “Cell” শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।
- 1674 সালে লিউয়েনহুক (Leeuwenhoek) প্রথম জীবন্ত কোশ দেখেন।
- 1839 সালে জার্মান উদ্ভিদবিদ স্লেইডেন (Schleiden) ও প্রাণীবিদ সোয়ান (Schwann) সম্মিলিতভাবে কোশ সংক্রান্ত তথ্য একত্রিত করে বিখ্যাত 'কোশবাদ' বা 'Cell Theory' উপস্থাপন করেন।
- বিজ্ঞানী স্লেইডেন এবং সোয়ান-কে বলা হয় 'কোশবাদের জনক' (Father of Cell Theory)।
কোশবাদের মূল বক্তব্য:
- প্রতিটি জীবের দেহ এক বা একাধিক কোশ দ্বারা গঠিত।
- কোশ হল জীবনের গঠনগত ও কার্যগত একক।
- প্রতিটি কোশ সজীব পর্দাবৃত এবং প্রোটোপ্লাজম সমন্বিত।
- প্রতিটি জীবের উৎপত্তি ঘটে একটি নির্দিষ্ট কোশ থেকে।
কোশের প্রকারভেদ
গঠনের ভিত্তিতে কোশকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- প্রোক্যারিওটিক কোশ (Prokaryotic Cell)
- ইউক্যারিওটিক কোশ (Eukaryotic Cell)
প্রোক্যারিওটিক কোশ (Prokaryotic Cell)
Pro = আদি, Karyon = নিউক্লিয়াস
সংজ্ঞা: যেসব কোশে আদর্শ নিউক্লিয়াস থাকে না অর্থাৎ, নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয় পর্দা, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয় জালিকা থাকে না এবং কোশে কোনো পর্দাঘেরা কোশঅঙ্গাণু থাকে না, ক্রোমোজোম গঠিত হয় না, তাদের আদিকোশ বা প্রোক্যারিওটিক কোশ বলে।
যেমন: ব্যাকটেরিয়া (রাইজোবিয়াম, ই. কোলাই), নীলাভ-সবুজ শৈবাল (নস্টক, অ্যানাবিনা), মাইকোপ্লাজমা ইত্যাদি।
প্রোক্যারিওটিক কোশের বৈশিষ্ট্য:
- কোশের আয়তন: প্রোক্যারিওটিক কোশগুলি আকারে অতি ক্ষুদ্র হয়, যেমন মাইকোপ্লাজমা (0.1-0.25 μm ব্যাসযুক্ত)।
- কোশ আবরক: ব্যাকটেরিয়া ও সায়ানোব্যাকটেরিয়ার কোশের বাইরে কোশপ্রাচীর বর্তমান (মাইকোপ্লাজমা কোশপ্রাচীরবিহীন)। কোশপ্রাচীরের মুখ্য উপাদান হল মিউকোপেপটাইড বা পেপটাইডোগ্লাইকান। কোশপ্রাচীরের ভিতরে প্রোটোপ্লাজমের বাইরে কোশপর্দা উপস্থিত।
- নিউক্লিওয়েড: নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয় পর্দা, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিওপ্লাজম ও নিউক্লিয়জালিকা থাকে না। সাইটোপ্লাজমে হিস্টোন প্রোটিনবিহীন নগ্ন দ্বিতন্ত্রী চক্রাকার DNA অণুকে নিউক্লিওয়েড (Nucleoid) বা জেনোফোর (Xenophore) বলে। এদের নিউক্লিয় জালিকা না থাকায় ক্রোমোজোম গঠিত হয় না।
- পর্দাবৃত কোশীয় অঙ্গাণু: কোশে পর্দাবৃত কোশীয় অঙ্গাণু - মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাসটিড, গলগি বডি প্রভৃতি থাকে না।
- রাইবোজোম: কোশে পর্দাবিহীন 70S প্রকৃতির রাইবোজোম বর্তমান। রাইবোজোমগুলি সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো থাকে।
- মেসোজোম: কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়াতে কোশপর্দা কোশের ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে গিয়ে মেসোজোম নামক কুণ্ডলিত থলির মতো গঠন তৈরি করে।
- সালোকসংশ্লেষকারী থাইলাকয়েড: ব্যাকটেরিও-ক্লোরোফিলযুক্ত, চ্যাপটা থলির মতো থাইলাকয়েড বর্তমান।
- ফ্ল্যাজেলা ও পিলি: কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়াতে দেহকোশের বাইরে গমনঅঙ্গ হিসেবে ফ্ল্যাজেলা ও যৌন জননে সাহায্যকারী অঙ্গ পিলি উপস্থিত থাকে।
ইউক্যারিওটিক কোশ (Eukaryotic Cell)
Eu = সত্য, Karyon = নিউক্লিয়াস
সংজ্ঞা: যেসব কোশে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিয়ার জালিকা) এবং বিভিন্ন পর্দাবৃত কোশীয় অঙ্গাণু (যেমন মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, প্লাস্টিড ইত্যাদি) থাকে, তাদের ইউক্যারিওটিক কোশ বলে।
যেমন: অ্যামিবা, ইউগ্লিনা, সমস্ত ছত্রাক, উদ্ভিদ ও প্রাণী কোশ।
ইউক্যারিওটিক কোশের বৈশিষ্ট্য:
- কোশের আয়তন: প্রোক্যারিওটিকের তুলনায় বড়ো। কোশের আয়তন প্রায় 5 - 100 μm হয়।
- কোশ আবরক: সালোকসংশ্লেষকারী প্রোটিস্টা (ব্যতিক্রম: ইউগ্লিনা), ছত্রাক, উদ্ভিদ কোশে কোশপ্রাচীর ও কোশপর্দা উভয়ই বর্তমান এবং প্রোটোজোয়ান প্রোটিস্টা ও প্রাণীকোশে কেবলমাত্র কোশপর্দা বর্তমান। কোশপ্রাচীরের মুখ্য উপাদানগুলি হল সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন ও সুবেরিন ইত্যাদি।
- নিউক্লিয়াস: নিউক্লিয় পর্দা, নিউক্লিয়জালিকা, নিউক্লিওপ্লাজম ও নিউক্লিওলাস সমন্বিত সুগঠিত নিউক্লিয়াস বর্তমান।
- পর্দাবৃত কোশীয় অঙ্গাণু: গলগি বডি, ER, মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড (উদ্ভিদকোশ) প্রভৃতি পর্দাবৃত কোশীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
- পর্দাবিহীন কোশীয় অঙ্গাণু: 80S প্রকৃতির রাইবোজোম, সেন্ট্রোজোম (প্রাণীকোশ) প্রভৃতি পর্দাবিহীন কোশীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। রাইবোজোমগুলি এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও নিউক্লিয়ার পর্দার গায়ে অথবা সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে।
- ফ্ল্যাজেলা ও সিলিয়া: কিছু কোশের বাইরে বেশি দৈর্ঘ্যযুক্ত ফ্ল্যাজেলা বা কম দৈর্ঘ্যযুক্ত সিলিয়া উপস্থিত থাকে।
কোশের প্রধান অঙ্গাণুসমূহ
- কোশপর্দা (Cell Membrane)
- সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)
- নিউক্লিয়াস (Nucleus)
- নিউক্লিওলাস (Nucleolus)
- রাফ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (Rough ER)
- স্মুথ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (Smooth ER)
- রাইবোজোম (Ribosome)
- গলগি বডি (Golgi Apparatus)
- মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)
- লাইসোজোম (Lysosome)
- ভ্যাকুয়োল (Vacuole)
- পেরক্সিসোম (Peroxisome)
- সাইটোস্কেলেটন (Cytoskeleton)
- ক্যাপসুল (Capsule, কিছু ব্যাকটেরিয়াতে)
- ফ্ল্যাজেলা ও পিলি (Flagella & Pili, কিছু ব্যাকটেরিয়াতে)
ধন্যবাদ