CLASS NO: 02
কোশপ্রাচীর (Cell Wall)
সংজ্ঞা (Definition): উদ্ভিদকোশের কোশপর্দার বাইরে সেলুলোজ নির্মিত জড় পদার্থের যে একটি পুরু, দৃঢ়, ভেদ্য ও স্থিতিস্থাপক আবরণ (coat) থাকে, তাকে কোশপ্রাচীর বা কোশপ্রাকার বলে।
কোশপ্রাচীরের গঠন (Structure of Cell Wall)
পরিণত উদ্ভিদকোশের কোশপ্রাচীর 3টি স্তর দিয়ে গঠিত, যথা—
- মধ্যপর্দা (Middle lamella)
- প্রাথমিক প্রাচীর (Primary wall)
- গৌণ প্রাচীর (Secondary wall)
1. মধ্যপর্দা বা মধ্য ল্যামেলা (Middle lamella):
উদ্ভিদকলার সন্নিহিত দুটি কোশের মাঝে যে আন্তঃকোশীয় ধাত্র থাকে, তাকে মধ্যপর্দা বলে। এটি প্রধানত ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পেকটেট এবং কিছু প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
2. প্রাথমিক প্রাচীর (Primary wall):
মধ্যপর্দার দু-পাশে প্রথম যে প্রাচীর গঠিত হয়, তাকে প্রাথমিক প্রাচীর বলে। এটি তুলনামূলকভাবে পাতলা ও ভেদ্য এবং প্রধানত সেলুলোজ দিয়ে গঠিত।
3. গৌণ প্রাচীর (Secondary wall):
প্রাথমিক কোশপ্রাচীরের ভিতরের দিকে এবং প্লাজমা পর্দার বাইরে যে প্রাচীর গঠিত হয়, তাকে গৌণ প্রাচীর বলে। এটি পুরু, শক্ত, ভেদ্য এবং সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন ইত্যাদি উপাদানের সহযোগে গঠিত।
কোশপ্রাচীরের কাজ (Function of Cell Wall):
- কোশের প্রোটোপ্লাজম এবং প্লাজমা পর্দাকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- কোশপ্রাচীর কোশকে যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে।
- ভেদ্য কোশপ্রাচীর পাশাপাশি দুটি কোশের মধ্যে জল ও খনিজ পদার্থ আদান-প্রদানে সাহায্য করে।
কোশপর্দা (Cell Membrane)
সংজ্ঞা (Definition): প্রতিটি সজীব কোশের প্রোটোপ্লাজম বাইরের দিক থেকে যে অতি সূক্ষ্ম, স্থিতিস্থাপক, আধাভেদ্য, লাইপোপ্রোটিন নির্মিত ত্রিস্তরীয় সজীব আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে, তাকে কোশপর্দা বলে।
কোশপর্দার গঠন (Structure of Cell Membrane)
1. রবার্টসনের একক পর্দা মডেল (Robertson's Unit Membrane Model, 1959):
- জীবজগতে উপস্থিত সমস্ত সজীব পর্দা তিনটি স্তরযুক্ত (প্রোটিন-লিপিড-প্রোটিন: P-L-P)।
- দ্বিস্তরীয় লিপিড স্তর বহিস্থ ও অন্তঃস্থ প্রোটিন স্তরের মাঝে স্যান্ডউইচের মতো অবস্থান করে।
- বহিস্থ প্রোটিন মিউকোপ্রোটিন ও অন্তঃস্থ প্রোটিন ননমিউকোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত।
- একক পর্দা গড়ে 75Å চওড়া হয়— বহিস্থ প্রোটিন স্তর 20Å, অন্তঃস্থ প্রোটিন স্তর 20Å, এবং মধ্যবর্তী লিপিড স্তর 35Å পুরু।
2. সিঙ্গার ও নিকলসন-এর তরল মোজেইক মডেল (Fluid Mosaic Model, 1972):
- কোশপর্দার গঠনে প্রোটিন অণুগুলি লিপিড সমুদ্রের মধ্যে ভাসমান বরফের মতো থাকে (Protein icebergs in a sea of lipids)।
- লিপিড অবিচ্ছিন্নভাবে একটি দ্বিস্তরীয় স্তর গঠন করে, যা ফসফোলিপিড দিয়ে তৈরি।
- প্রতিটি ফসফোলিপিড অণু দুটি প্রান্তবিশিষ্ট— জলাকর্ষী মস্তক (হাইড্রোফিলিক হেড) ও জলবিকর্ষী পুচ্ছ (হাইড্রোফোবিক টেল)।
- প্রোটিন অণুগুলি গ্লোবিউলার প্রকৃতির এবং দুই ধরনের— বহিস্থ প্রোটিন ও অন্তঃস্থ প্রোটিন।
- বহিস্থ প্রোটিন (যেমন স্পেকট্রিন) লিপিড অণুর পোলার প্রান্তের সঙ্গে দুর্বল ইলেকট্রোস্ট্যাটিক বন্ধনে যুক্ত থাকে (মোট প্রোটিনের প্রায় 30%)।
- অন্তঃস্থ প্রোটিন (যেমন গ্লাইকোফোরিন) লিপিড দ্বিস্তরের মধ্যে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে মোজেইক দানার মতো প্রোথিত থাকে (মোট প্রোটিনের প্রায় 70%)।
- লিপিড ও প্রোটিন অণুগুলির মধ্যে তীব্র হাইড্রোফিলিক বা হাইড্রোফোবিক আকর্ষণ কাজ করে।
কোশপর্দার কাজ (Function of Cell Membrane):
- কোশমধ্যস্থ সজীব অংশকে রক্ষা করে।
- কোশপর্দা বা প্লাজমা পর্দা বহিঃ ও অন্তঃমাধ্যমের মধ্যে অভিস্রবণীয় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।
- কোশ-অঙ্গাণু (যেমন মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম) এবং নিউক্লিয় পর্দা সৃষ্টি করে।
- কোশান্তর ব্যাপন ও অভিস্রবণে সাহায্য করে।
ধন্যবাদ