CLASS NO: 06
কোশগহ্বর (Vacuole)
কোশগহ্বর কাকে বলে? এর অবস্থান কোথায়?
জীবকোশের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থিত, পর্দাবৃত কোশরসপূর্ণ বা ফাঁকা গহ্বরগুলিকে কোশগহ্বর বা ভ্যাকুওল বলে।
অবস্থান:
- কোশের সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র আকারের কোশগহ্বরগুলি ছড়ানো থাকে।
- পরিণত উদ্ভিদকোশে এই কোশগহ্বরগুলি একত্রিত হয়ে একটি বৃহৎ কোশগহ্বরে পরিণত হয়।
- প্রাণীকোশে ভ্যাকুওল আকারে ছোটো ও সংখ্যায় বেশি হয়।
কোশগহ্বরের গঠন বর্ণনা করো
- কোশগহ্বর বা ভ্যাকুওল দেখতে ছোটো বা বড়ো গহ্বরের মতো।
- ভ্যাকুওল টোনোপ্লাস্ট নামক সাইটোপ্লাজমীয় পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- গহ্বরের মধ্যে কোশরস (cell sap) থাকে। কোশরসে খনিজ, দ্রবীভূত রঙ্গক, জৈব অ্যাসিড, O₂, CO₂ গ্যাস, শর্করা থাকে।
- রঙ্গকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য: রেগুনি বর্ণের অ্যান্থোসায়ানিন, হলুদ বর্ণের অ্যাম্পোজ্যানথিন।
- পরিণত উদ্ভিদকোশে কেন্দ্রীয় ভ্যাকুওল গঠিত হয়, ফলে সাইটোপ্লাজমসহ নিউক্লিয়াসটি কোশের পরিধির দিকে চলে যায়।
- কোশের পরিধি বরাবর সাইটোপ্লাজমের এই বিন্যাসকে প্রাইমরডিয়াল ইউট্রিক্স বলে।
কোশগহ্বরের কাজ লেখো
- কোশ মধ্যস্থ সাইটোপ্লাজমের চাপের সমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- উদ্ভিদকোশে সস্ফীতি চাপ সৃষ্টি করে উদ্ভিদটিকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে সহায়তা করে।
- সংকোচনশীল গহ্বর রেচন পদার্থ অপসারণে সহায়তা করে; খাদ্যগহ্বরে খাদ্য সঞ্চিত থাকে।
- উদ্ভিদকোশের ভ্যাকুওলের অভ্যন্তরে থাকা অ্যান্থোসায়انিন, অ্যান্থোজ্যানথিন ইত্যাদি রঙ্গক ফুলের পাপড়ির বর্ণ নির্ধারণ করে।
রাইবোজোম (Ribosome)
রাইবোজোম কাকে বলে? এর অবস্থান কোথায়?
প্রোটিন ও RNA-এর সমন্বয়ে গঠিত, একক পর্দাবিহীন, গোলাকার কোশীয় অঙ্গাণু, যা এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা ও নিউক্লিয়ার পর্দার গায়ে অবস্থান করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে, তাদের রাইবোজোম বলে।
অবস্থান:
- প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক কোশের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে,
- এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও নিউক্লিয়ার পর্দায়,
- নিউক্লিওলাসে রাইবোজোম থাকে।
আবিষ্কার:
- বিজ্ঞানী রবিনসন ও ব্রাউন (1953) উদ্ভিদকোশে এবং প্যালাডে (1955) প্রাণীকোশে রাইবোজোম আবিষ্কার করেন।
রাইবোজোমের গঠন বর্ণনা করো
- প্রত্যেকটি রাইবোজোম দুটি অধঃএকক দ্বারা গঠিত—বৃহৎ অধঃএকক (large subunit) ও ক্ষুদ্র অধঃএকক (small subunit)।
- ম্যাগনেসিয়াম আয়ন এই সংযুক্তিতে সাহায্য করে।
- এটি 50% RNA ও 50% হিস্টোনজাতীয় প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
- প্রোক্যারিওটিক কোশের সাইটোপ্লাজমে কতকগুলি রাইবোজোম একত্রে পলিরাইবোজোম বা পলিজোম গঠন করে।
- ইউক্যারিওটিক কোশের রাইবোজোম 80S প্রকৃতির (60S ও 40S অধঃএকক),
প্রোক্যারিওটিক কোশের রাইবোজোম 70S প্রকৃতির (50S ও 30S অধঃএকক)।
- S = ভেদবার্গ একক (Svedberg Unit) বা অবক্ষেপণ গুণাঙ্ক (Sedimentation coefficient)।
রাইবোজোমের কাজ লেখো
- প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ; এজন্য একে কোশের 'প্রোটিন ফ্যাক্টরি' বলে।
- এটি স্নেহপদার্থের বিপাকে সাহায্য করে।
লাইসোজোমকে 'আত্মঘাতী থলি' (Suicidal bag) বলা হয় কেন?
কোনো সজীব কোশ কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোশটির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কোশটির লাইসোজোম বিদীর্ণ হয় এবং আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচকসমূহ নির্গত হয়ে সমগ্র কোশটির ধ্বংস ঘটায়। লাইসোজোম নিজে বিদীর্ণ হবার সাথে সাথে কোশটিরও ধ্বংসসাধন করে, তাই লাইসোজোমকে 'আত্মঘাতী থলি' বলা হয়।
'জোন অফ এক্সক্লুশন' (Zone of Exclusion) বলতে কী বোঝো?
গলগি বস্তুর চারপাশে যে সাইটোপ্লাজমীয় অংশ থাকে, সেখানে কোনো কোশীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে না। এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা থেকে গলগি বস্তু পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঙ্গাণুবিহীন সাইটোপ্লাজমীয় ক্ষেত্রকে 'জোন অফ এক্সক্লুশন' বলে।
জেনে রাখো
- মাইটোকনড্রিয়া ও প্লাস্টিডের নিজস্ব দ্বি-একক পর্দা, DNA ও 70S রাইবোজোম থাকার জন্য এরা নিজস্ব প্রোটিন উৎপন্ন করতে সক্ষম। তাই এদের অর্ধস্বতন্ত্র অঙ্গাণু (Semiautonomous organelle) বলে।
- বিজ্ঞানী পোর্টার (Porter, 1953) ও কলম্যান (Kallman) 'এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা' নামকরণ করেন।
- ইতালীয় বিজ্ঞানী ক্যামিলো গলগি (Camillo Golgi, 1898) প্রথম পেঁচার স্নায়ুকোশে গলগি বডি পর্যবেক্ষণ করেন।
- বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান দ্য ডুভে (Christian Duve, 1955) লাইসোজোম আবিষ্কার ও নামকরণ করেন।
ধন্যবাদ