প্রাণীদেহে মূলত চার প্রকার কলা দেখা যায়। এই অংশে আমরা পেশিকলা এবং স্নায়ুকলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে সৃষ্ট, সংকোচন-প্রসারণশীল তন্তু দ্বারা গঠিত যে কলা প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে এবং চলন-গমনে সহায়তা করে, তাকে পেশিকলা বলে।
পেশিকোষকে মায়োসাইট বলে।
গঠন, অবস্থান ও কাজের ভিত্তিতে পেশিকলা তিন প্রকার:
| বিষয় | ঐচ্ছিক পেশি (Skeletal Muscle) | অনৈচ্ছিক পেশি (Smooth Muscle) | হৃৎপেশি (Cardiac Muscle) |
|---|---|---|---|
| সংজ্ঞা | যে পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত হয় এবং আড়াআড়ি রেখা দেখা যায়, তাকে ঐচ্ছিক বা সরেখ পেশি বলে। | যে পেশি প্রাণীর ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রিত হয় না এবং আড়াআড়ি রেখা থাকে না, তাকে অনৈচ্ছিক বা মসৃণ পেশি বলে। | যে বিশেষ অনৈচ্ছিক পেশি শুধুমাত্র হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে থাকে এবং যার মধ্যে আড়াআড়ি রেখা দেখা যায়, তাকে হৃৎপেশি বলে। |
| অবস্থান | অস্থির সঙ্গে যুক্ত থাকে (যেমন: হাত, পায়ের পেশি)। | অভ্যন্তরীণ ফাঁপা অঙ্গের প্রাচীরে থাকে (যেমন: পৌষ্টিকনালী, রক্তনালী)। | শুধুমাত্র হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে অবস্থান করে। |
| কাজ | অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন ও চলন-গমনে সহায়তা করে। | অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কার্যাবলী (যেমন: পেরিস্টলসিস) সম্পন্ন করে। | নির্দিষ্ট ছন্দে সংকুচিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। |
ভ্রূণের এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট, নিউরোন ও নিউরোগ্লিয়া কোষ দ্বারা গঠিত যে বিশেষ কলার মাধ্যমে প্রাণীদেহে উদ্দীপনা গ্রহণ, পরিবহন, বিশ্লেষণ এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা সম্ভব হয়, তাকে স্নায়ুকলা বলে।
স্নায়ুকলা দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত:
| বিষয় | অস্থি (Bone) | তরুণাস্থি (Cartilage) |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | কঠিন, অনমনীয় ও অস্থিতিস্থাপক। | নরম, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। |
| ধাত্র | ধাত্র ওসেইন (Ossein) এবং ক্যালসিয়াম লবণ দ্বারা গঠিত। | ধাত্র কনড্রিন (Chondrin) দ্বারা গঠিত। |
| রক্ত সরবরাহ | হ্যাভারসিয়ান নালীর মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ হয়। | রক্ত সরবরাহ সরাসরি হয় না। |
| কাজ | দেহের কাঠামো গঠন, ভার বহন, অঙ্গকে সুরক্ষা প্রদান এবং রক্তকণিকা উৎপাদন। | অস্থিসন্ধিকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করা এবং অঙ্গকে আকৃতি ও দৃঢ়তা প্রদান। |