CLASS NO: 04
প্রাণীকলা (Animal Tissue)
একই উৎস থেকে সৃষ্ট সম বা অসম আকৃতির কোষগুচ্ছ যখন সম্মিলিতভাবে একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে, তখন সেই কোষ সমষ্টিকে প্রাণীকলা বলে।
প্রাণীদেহে প্রধানত চার প্রকার কলা দেখা যায়:
- আবরণী কলা (Epithelial Tissue)
- যোগকলা (Connective Tissue)
- পেশিকলা (Muscle Tissue)
- স্নায়ুকলা (Nervous Tissue)
১. আবরণী কলা (Epithelial Tissue)
সংজ্ঞা: যে কলা প্রাণীদেহের বাইরের আবরণ (ত্বক) এবং দেহ মধ্যস্থ বিভিন্ন অঙ্গ ও গহ্বরের মুক্ত তলে একটি অবিচ্ছিন্ন আচ্ছাদন তৈরি করে, তাকে আবরণী কলা বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- কোষগুলি একটি পাতলা, অকোষীয় ভিত্তিপর্দার (Basement Membrane) ওপর এক বা একাধিক স্তরে সজ্জিত থাকে।
- কোষগুলি ঘনসন্নিবিষ্ট হওয়ায় আন্তঃকোষীয় স্থান বা ধাত্র (Matrix) প্রায় থাকে না।
- কোষের মুক্ত প্রান্তে অনেক সময় সিলিয়া বা মাইক্রোভিলাই থাকতে পারে।
- এই কলায় কোনো রক্তবাহ থাকে না। লসিকার মাধ্যমে পুষ্টি সংগ্রহ করে।
আবরণী কলার শ্রেণিবিভাগ:
- কোষের আকৃতি অনুযায়ী: আঁইশাকার (Squamous), ঘনকাকার (Cuboidal), স্তম্ভাকার (Columnar)।
- কোষস্তরের সজ্জা অনুযায়ী: সরল (Simple) এবং জটিল বা স্তরীভূত (Stratified)।
কাজ:
- সুরক্ষা: দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে বাইরের আঘাত, সংক্রমণ ও শুষ্কতা থেকে রক্ষা করা।
- ক্ষরণ: গ্রন্থি থেকে হরমোন, উৎসেচক, ঘাম ইত্যাদি ক্ষরণ করা।
- শোষণ: অন্ত্রের প্রাচীরে থাকা আবরণী কলা পাচিত খাদ্যরস শোষণ করে।
- পরিবহণ: ফুসফুস ও রক্তজালকের আবরণী কলা গ্যাসীয় পদার্থের আদান-প্রদানে সহায়তা করে।
২. যোগকলা (Connective Tissue)
সংজ্ঞা: ভ্রূণের মেসোডার্ম স্তর থেকে উৎপন্ন যে কলা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও কলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, কাঠামো গঠন করে এবং ভার বহন করে, তাকে যোগকলা বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- এই কলার প্রধান উপাদান হলো ধাত্র বা ম্যাট্রিক্স (Matrix), যা তরল, অর্ধকঠিন বা কঠিন হতে পারে।
- কোষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং কোষগুলি ধাত্রের মধ্যে ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকে।
- প্রচুর পরিমাণে আন্তঃকোষীয় স্থান থাকে।
যোগকলার শ্রেণিবিভাগ:
- সঠিক যোগকলা (Connective Tissue Proper):
- অ্যারিওলার কলা: ত্বকের নীচে থাকে এবং ফাঁকা স্থান পূরণ করে।
- অ্যাডিপোজ কলা: চর্বি বা ফ্যাট সঞ্চয় করে।
- তন্তুময় যোগকলা: টেনডন (পেশিকে অস্থির সঙ্গে যুক্ত করে) ও লিগামেন্ট (অস্থিকে অস্থির সঙ্গে যুক্ত করে) গঠন করে।
- কঙ্কাল যোগকলা (Skeletal Connective Tissue):
- অস্থি (Bone): দেহের কাঠামো গঠন করে।
- তরুণাস্থি (Cartilage): অস্থিসন্ধিতে এবং নাক, কানে থেকে চাপ প্রতিরোধ করে।
- সংবহনকারী বা তরল যোগকলা (Fluid Connective Tissue):
- রক্ত (Blood): অক্সিজেন, খাদ্য, হরমোন ইত্যাদি পরিবহণ করে।
- লসিকা (Lymph): রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
কাজ:
- সংযোগ স্থাপন ও কাঠামো গঠন: দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে এবং কাঠামো গঠন করে।
- পরিবহণ: রক্ত ও লসিকা দেহের সর্বত্র শ্বাসবায়ু, খাদ্য, হরমোন ইত্যাদি পরিবহণ করে।
- প্রতিরক্ষা: রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।
- ক্ষত নিরাময়: যোগকলা দেহের ক্ষতস্থান পূরণে সাহায্য করে।
ধন্যবাদ