CLASS NO: 01
কলা (Tissue)
সংজ্ঞা: উৎপত্তিগতভাবে এক, এমন সম বা বিষম আকৃতির কতকগুলি কোশ যখন সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান করে একটি নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করে, তখন ওই কোশসমষ্টিকে কলা (Tissue) বলে।
জীব সংগঠনের স্তর:
কোশ ➔ কলা ➔ অঙ্গ ➔ তন্ত্র ➔ জীবদেহ
কলার প্রকারভেদ
প্রধানত কলা দুই প্রকার:
- প্রাণী কলা (Animal Tissue)
- উদ্ভিদ কলা (Plant Tissue)
১. প্রাণী কলা (Animal Tissue)
প্রাণীদেহে প্রধানত চার ধরনের কলা দেখা যায়:
- আবরণী কলা (Epithelial Tissue): দেহের বাইরের আবরণ (ত্বক) এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ফাঁপা অঙ্গের (যেমন: পৌষ্টিকনালী) ভেতরের আবরণ গঠন করে।
- যোগ কলা (Connective Tissue): দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও কলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। যেমন: অস্থি, টেনডন, ফ্যাট বা মেদ কলা।
- পেশী কলা (Muscle Tissue): অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে। এটি তিন প্রকার: ঐচ্ছিক পেশী (Skeletal), মসৃণ পেশী (Smooth) ও হৃৎপেশী (Cardiac)।
- স্নায়ু কলা (Nervous Tissue): সংবেদনা গ্রহণ ও পরিবহণ করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিতে সাহায্য করে। যেমন: মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড, স্নায়ু ইত্যাদি।
২. উদ্ভিদ কলা (Plant Tissue)
উদ্ভিদ কলা প্রধানত দুই প্রকার:
- ক) ভাজক কলা (Meristematic Tissue)
- খ) স্থায়ী কলা (Permanent Tissue)
ক) ভাজক কলা (Meristematic Tissue)
সংজ্ঞা: উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে অবস্থিত, অপরিণত ও বিভাজনে সক্ষম সজীব কোশ দ্বারা গঠিত কলাকে ভাজক কলা বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- কোশগুলি সজীব, অপরিণত এবং বিভাজনে সক্ষম।
- কোশপ্রাচীর পাতলা ও সেলুলোজ নির্মিত।
- কোশগুলি ঘন সন্নিবিষ্ট হওয়ায় আন্তঃকোশীয় স্থান থাকে না।
- কোশের নিউক্লিয়াস বড় এবং সাইটোপ্লাজম ঘন।
- সাধারণত ভ্যাকুওল থাকে না, বা থাকলেও খুব ছোট হয়।
অবস্থান অনুযায়ী প্রকারভেদ:
-
অগ্রস্থ ভাজক কলা (Apical Meristem):
অবস্থান: মূল, কাণ্ড ও শাখার অগ্রভাগে থাকে।
কাজ: উদ্ভিদের প্রাথমিক বৃদ্ধি অর্থাৎ দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়।
-
নিবেশিত ভাজক কলা (Intercalary Meristem):
অবস্থান: দুটি স্থায়ী কলার মধ্যবর্তী স্থানে, যেমন— ঘাস, বাঁশ, আখ প্রভৃতির পর্বমধ্যে থাকে।
কাজ: পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়।
-
পার্শ্বস্থ ভাজক কলা (Lateral Meristem):
অবস্থান: মূল ও কাণ্ডের পরিধি বরাবর অবস্থিত।
কাজ: উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি অর্থাৎ প্রস্থে বা বেড় বৃদ্ধি ঘটায়।
কাজ:
- ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে নতুন কোশ সৃষ্টি করে ও উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটায়।
- ভাজক কলা থেকেই স্থায়ী কলার উৎপত্তি হয়।
খ) স্থায়ী কলা (Permanent Tissue)
সংজ্ঞা: ভাজক কলা থেকে উৎপন্ন, বিভাজনে অক্ষম এবং পরিণত কোশ দ্বারা গঠিত কলাকে স্থায়ী কলা বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- কোশগুলি বিভাজনে অক্ষম।
- কোশপ্রাচীর পাতলা বা পুরু হতে পারে।
- কোশগুলি সজীব বা মৃত হতে পারে।
- কোশে বড় ভ্যাকুওল থাকে।
- কোশান্তর-রন্ধ্র থাকতেও পারে, আবার নাও পারে।
কাজ:
- উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
- খাদ্য প্রস্তুত, সঞ্চয় ও পরিবহণে সাহায্য করে।
- জল সংবহনে সাহায্য করে।
প্রকারভেদ:
স্থায়ী কলা তিন প্রকার:
- সরল স্থায়ী কলা (Simple Permanent Tissue): একই প্রকার কোশ দিয়ে গঠিত। এটি তিন ধরনের:
- প্যারেনকাইমা (Parenchyma)
- কোলেনকাইমা (Collenchyma)
- স্ক্লেরেনকাইমা (Sclerenchyma)
- জটিল স্থায়ী কলা (Complex Permanent Tissue): একাধিক প্রকার কোশ দিয়ে গঠিত। এটি দুই প্রকার:
- জাইলেম (Xylem): জল ও খনিজ লবণ পরিবহণ করে।
- ফ্লোয়েম (Phloem): পাতায় উৎপন্ন খাদ্য সারা দেহে ছড়িয়ে দেয়।
- বিশেষ বা ক্ষরিত কলা (Special or Secretory Tissue): বিশেষ ধরনের পদার্থ (যেমন: রজন, তরুক্ষীর) ক্ষরণ করে। যেমন: গ্রন্থিকলা, ল্যাটিসিফেরাস কলা।
ধন্যবাদ