বিষয়: শব্দ (Sound)
সহজ পাঠ: ০৫
১. প্রতিধ্বনি দিয়ে অংক (Math with Echoes)
আগের ক্লাসের অংকগুলো চলো আরেকবার ঝালিয়ে নিই। সূত্রগুলো একদম সোজা!
ক) সমুদ্রের গভীরতা মাপা 🌊
- বুদ্ধিটা কী? জাহাজ থেকে শব্দ পাঠানো হলো। শব্দটা নিচে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে আবার ফিরে এল। এই মোট সময়টা আমরা জানি।
- যেহেতু শব্দকে যেতে এবং আসতে হয়েছে, তাই আসল গভীরতা মাপতে হলে শুধু যাওয়ার সময়টা লাগবে। তাই মোট সময়কে ২ দিয়ে ভাগ করতে হয়।
- সূত্র:
গভীরতা = (শব্দের বেগ × মোট সময়) / ২
প্রশ্ন: একটা জাহাজ থেকে শব্দ পাঠালে ৪ সেকেন্ড পর ফিরে এল। জলে শব্দের বেগ ১৪৫০ মি/সে হলে গভীরতা কত?
সমাধান:
গভীরতা = (১৪৫০ × ৪) / ২ = ২৯০০ মিটার। (মানে প্রায় ৩ কিলোমিটার গভীর!)
খ) উড়োজাহাজের উচ্চতা মাপা ✈️
- বুদ্ধিটা কী? এখানেও একই ঘটনা, কিন্তু একটা সমস্যা আছে। জাহাজটা স্থির ছিল, কিন্তু উড়োজাহাজটা নিজেও চলছে! তাই শব্দ যখন নিচে গিয়ে ফিরে আসছে, উড়োজাহাজটা তখন একটু এগিয়ে গেছে। এই কারণে সূত্রটা একটু বদলে যায়।
- সূত্র:
উচ্চতা (h) = (t × √(v² - u²)) / 2
(এখানে, v = শব্দের বেগ, u = উড়োজাহাজের বেগ, t = মোট সময়)
প্রশ্ন: ৩৬০ কিমি/ঘণ্টা বেগে চলা একটা প্লেন থেকে শব্দ পাঠালে ৬ সেকেন্ড পর প্রতিধ্বনি ফেরে। বাতাসে শব্দের বেগ ৩৫০ মি/সে হলে, উচ্চতা কত?
সমাধান:
- একক ঠিক করি: প্লেনের বেগ ৩৬০ কিমি/ঘণ্টা = (৩৬০ × ১০০০) / ৩৬০০ মিটার/সেকেন্ড = ১০০ মি/সে।
- এবার সূত্রে বসাই:
h = (6 × √(350² - 100²)) / 2
h = (6 × √(122500 - 10000)) / 2
h = (6 × √112500) / 2
h = (6 × 335.4) / 2 (প্রায়)
h = 2012.4 / 2 = 1006.2 মিটার (প্রায় ১ কিমি উঁচু)
২. গান আর গোলমাল (Musical Sound vs. Noise)
সব শব্দ কি একরকম? না! কিছু শব্দ শুনতে ভালো লাগে, আর কিছু লাগে না।
ক. সুরযুক্ত শব্দ (গান) 🎵:
- এটা কী? এটা হলো গোছানো, মিষ্টি শব্দ, যা শুনতে ভালো লাগে। এর কাঁপুনিটা একটা নিয়মিত ছন্দে হয়।
- উদাহরণ: গিটারের সুর, বাঁশির আওয়াজ, গানের গলা।
খ. সুরবর্জিত শব্দ (গোলমাল) 😠:
- এটা কী? এটা হলো বেসুরো, কর্কশ শব্দ। এর কাঁপুনিগুলো এলোমেলো, কোনো নিয়ম মানে না। একেই আমরা Noise বলি।
- উদাহরণ: থালা-বাসন পড়ার শব্দ, গাড়ির হর্ন, ক্লাসের চিৎকার।
| বিষয় | সুরযুক্ত শব্দ (গান) | সুরবর্জিত শব্দ (গোলমাল) |
|---|---|---|
| কাঁপুনি | নিয়ম মেনে কাঁপে | এলোমেলোভাবে কাঁপে |
| শুনতে | ভালো লাগে, আরামদায়ক | কানে লাগে, বিরক্তিকর |
| উদাহরণ | গিটার 🎸, বাঁশি | হাততালি 👏, হর্ন 🚗 |
৩. একটা সুরের ভেতরে কী কী থাকে?
যখন কোনো বাদ্যযন্ত্রে একটা সুর বাজে, তখন শুধু একটা শব্দ হয় না, অনেকগুলো শব্দ একসাথে মিশে একটা সুন্দর সুর তৈরি করে। ভাবো, এটা একটা গানের ব্যান্ডের মতো!
- মূল সুর (Fundamental Tone):
এটা হলো ব্যান্ডের প্রধান গায়ক (Lead Singer)। এর আওয়াজটা সবচেয়ে স্পষ্ট এবং জোরালো। এটাই সুরটার আসল পরিচয়।
- উপসুর (Overtone):
এরা হলো সহকারী গায়ক বা বাজনদার (Backup Singers/Musicians)। এরা মূল সুরের সাথে মিশে থাকে, কিন্তু তাদের আওয়াজটা একটু আস্তে। এরা সুরটাকে আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে তোলে।
- সমমেল (Harmonics):
পুরো ব্যান্ডটাকেই (Lead Singer + Backups) একসাথে সমমেল বলা হয়। অর্থাৎ, মূল সুর আর উপসুর সব মিলিয়েই তৈরি হয় একটা পূর্ণাঙ্গ সুর।
- অষ্টক (Octave):
এটা হলো হারমোনিয়ামের 'সা' আর তার পরের উঁচু 'সা'-এর মতো। যখন একটা সুরের কম্পাঙ্ক ঠিক দ্বিগুণ হয়ে যায়, তাকে অষ্টক বলে। শুনতে একই রকম লাগে, শুধু একটা মোটা আর একটা চিকন।
৪. শব্দের জোর বা প্রাবল্য (Intensity of Sound)
- এটা কী? সহজ কথায়, একটা শব্দ কতটা জোরে (Loud) বা আস্তে (Faint) শোনাচ্ছে, সেটাই তার প্রাবল্য। মানে, শব্দটা কতটা শক্তি নিয়ে আমাদের কানে এসে ধাক্কা মারছে।
- কিসের উপর নির্ভর করে?
- বিস্তার: শব্দের ঢেউ যত বড় বা উঁচু (Amplitude) হবে, শব্দ তত জোরে শোনাবে।
- দূরত্ব: উৎস থেকে তুমি যত দূরে যাবে, শব্দ তত আস্তে শোনাবে।
- উৎসের শক্তি: বড় মাইকের আওয়াজ ছোট মোবাইলের চেয়ে অনেক বেশি জোরালো হয়।
- মাধ্যম: ঘন মাধ্যমে (যেমন জল বা লোহা) শব্দ বেশি শক্তি নিয়ে চলতে পারে।
THANK YOU