নমস্কার বন্ধুরা!
আমরা তো আলোর প্রতিফলন আর প্রতিসরণ নিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু এই ঘটনাগুলো কি শুধু বইয়ের পাতাতেই থাকে? একদম না! আজ আমরা দেখব, এই বিষয়গুলো আমাদের প্রতিদিনের জীবনে কীভাবে জাদু দেখায়। চলো, গোয়েন্দার মতো করে চারপাশের ঘটনাগুলোর রহস্য সমাধান করি!
উত্তর: যখন জুতো ময়লা থাকে, তখন তার উপরিতল হয় অমসৃণ। সেখানে আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয় (আলোকরশ্মিগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে)। কিন্তু যখন তুমি জুতো পালিশ করো, তখন তার উপরিতল মসৃণ হয়ে যায়। আর মসৃণ তলে আলোকরশ্মি খুব শান্তশিষ্ট ছাত্রের মতো নিয়মিত প্রতিফলন ঘটায়। তাই আমাদের চোখে ধাঁধা লাগে আর জুতো চকচকে দেখায়।
উত্তর: ভাবো তো, সিনেমার পর্দায় যদি একটা বিশাল আয়না থাকত, কী হতো? আয়নাতে হয় নিয়মিত প্রতিফলন। ফলে, প্রজেক্টর থেকে আসা আলোকরশ্মিগুলো প্রতিফলিত হয়ে শুধু হলের একটি নির্দিষ্ট কোণায় থাকা দর্শকদের চোখেই পড়ত। বাকিরা কিছুই দেখতে পেত না!
এজন্যই সিনেমার পর্দা সাদা ও অমসৃণ করা হয়।
উত্তর: এতক্ষণে তোমরা নিশ্চয়ই গোয়েন্দার মতো উত্তরটা ধরে ফেলেছ! কারণটা হলো প্রতিফলনের ধরন। আয়নার তল মসৃণ, তাই সেখানে নিয়মিত প্রতিফলন হয় এবং একটি স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। কিন্তু দেয়ালের তল অমসৃণ, তাই সেখানে আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়। ফলে আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু কোনো স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয় না।
উত্তর: শুধু এক টুকরো কাচ কিন্তু আয়না নয়! কাচ তো স্বচ্ছ, আলো ওর ভেতর দিয়ে চলে যায়। আয়না বানানোর জন্য কাচের এক পিঠে পারদ বা রুপার একটি পাতলা প্রলেপ (Silvering) দেওয়া হয়। এই অস্বচ্ছ প্রলেপটিই একটি চমৎকার প্রতিফলক তল হিসেবে কাজ করে এবং প্রায় সমস্ত আলোকে প্রতিফলিত করে একটি ঝকঝকে প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
সূর্য ডুবে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ আকাশে আলো থাকে, আবার সূর্য ওঠার আগেও আকাশ আলোকিত হয়ে যায়। কীভাবে?
উত্তর: সূর্য দিগন্তের নিচে চলে গেলেও তার আলোকরশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক ওপর পর্যন্ত পৌঁছায়। সেখানে থাকা ধূলিকণা ও গ্যাসকণায় সেই আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে। সেই প্রতিফলিত আলোই পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং আমরা গোধূলি (সূর্যাস্তের পর) বা ঊষা (সূর্যোদয়ের আগে)-র আলো দেখতে পাই।
মনে আছে তো? আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে (যেমন: বাতাস থেকে জলে) প্রবেশ করে, তখন সে তার পথ থেকে একটু বেঁকে যায়। এই ঘটনাকেই প্রতিসরণ বলে।
প্রতিফলনের ফলে আলোকরশ্মি তার আসল পথ থেকে মোট যে কোণে বেঁকে যায়, তাকে চ্যুতিকোণ (δ) বলে।
সূত্র: δ = 180° - 2i (এখানে 'i' হলো আপতন কোণ)