CLASS 12

বিষয়: আলোর রঙিন জগৎ - বিচ্ছুরণ ও বিক্ষেপণ

নমস্কার বন্ধুরা!
আমরা এতদিন আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণের মতো ঘটনা দেখেছি। আজ আমরা আলোর সবচেয়ে সুন্দর এবং রঙিন একটি ঘটনা দেখব, যার নাম আলোর বিচ্ছুরণ। এই ঘটনার জন্যই আমরা আকাশে রামধনু দেখতে পাই! চলো, এই রঙিন জগতে ডুব দেওয়া যাক।

আলোর বিচ্ছুরণ কী? (Dispersion of Light)

সংজ্ঞা: কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের (যেমন প্রিজম) মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় সাদা বা বহুবর্ণী আলো তার উপাদান বর্ণগুলিতে বিশ্লিষ্ট বা ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।

প্রিজমের মধ্যে দিয়ে আলোর বিচ্ছুরণ

সাদা আলো আসলে একা নয়, তার ভেতরে সাতজন বন্ধু লুকিয়ে থাকে! প্রিজম সেই বন্ধুদের আলাদা করে দেয়।

বর্ণালি কী? (Spectrum)

আলোর বিচ্ছুরণের ফলে পর্দায় যে সাতটি রঙের পটি বা ব্যান্ড তৈরি হয়, তাকে বর্ণালি বলে। এই সাতটি রঙকে আমরা মনে রাখি বেনীআসহকলা (VIBGYOR) নামে।

রঙের জগৎ: প্রাথমিক, গৌণ ও পরিপূরক

রঙের ধরন সংজ্ঞা উদাহরণ
প্রাথমিক বর্ণ যে তিনটি রঙ দিয়ে বাকি সব রঙ তৈরি করা যায়। লাল, সবুজ, নীল
গৌণ বর্ণ দুটি প্রাথমিক রঙ মিশিয়ে যা তৈরি হয়। লাল + সবুজ = হলুদ
সবুজ + নীল = ময়ূরকণ্ঠী নীল
লাল + নীল = ম্যাজেন্টা
পরিপূরক বর্ণ যে দুটি রঙ মিশিয়ে আবার সাদা রঙ ফিরে পাওয়া যায়। হলুদ + নীল = সাদা

কেন জিনিসপত্র রঙিন দেখায়?

মজার প্রশ্ন: একটি লাল গোলাপকে যদি সবুজ আলোয় দেখা হয়, তবে কেমন দেখাবে?
উত্তর: কালো। কারণ, গোলাপটি সবুজ আলোকে শোষণ করে নেবে, প্রতিফলিত করার মতো কোনো লাল আলোই সেখানে নেই!

আলোর বিক্ষেপণ (Scattering of Light)

সূর্যের আলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন ধূলিকণা ও গ্যাস অণুর সাথে ধাক্কা খেয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আলোর এই ছড়িয়ে পড়াকেই বিক্ষেপণ বলে।

আলোর বিক্ষেপণের জন্য আকাশ নীল দেখায়

বিক্ষেপণের কারসাজি

তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ (Electromagnetic Wave)

আলো আসলে এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এই তরঙ্গের একটি বিশাল পরিবার আছে, যাদের অনেককেই আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না।

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
পরিবারের সদস্যরা (কম্পাঙ্ক অনুযায়ী):
গামা রশ্মি > এক্স-রে > অতিবেগুনি রশ্মি > দৃশ্যমান আলো > অবলোহিত রশ্মি > মাইক্রোওয়েভ > বেতার তরঙ্গ

ক্ষতিকারক প্রভাব:

কিছু জরুরি তথ্য এক নজরে

Thank You!