অধ্যায়: উদ্ভিদ ও প্রাণীর রোগ এবং অনাক্রমতা

দিন/রাত

CLASS NO: 03

রোগ বাহক বা ভেক্টর (Vectors of Diseases)

সংজ্ঞা:

যেসব জীব (সাধারণত পতঙ্গ বা সন্ধিপদী প্রাণী) এক সংক্রামিত প্রাণী বা মানুষ থেকে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে (Pathogen) অন্য সুস্থ প্রাণী বা মানুষের দেহে স্থানান্তরিত করে, তাদের ভেক্টর (Vector) বা রোগ বাহক বলা হয়। ভেক্টর নিজেই রোগে আক্রান্ত হয় না, কিন্তু জীবাণুকে বহন ও বিস্তার করে রোগের সংক্রমণ ঘটায়।

ভেক্টর ও যান্ত্রিক বাহকের (Mechanical Carrier) মধ্যে পার্থক্য

পরীক্ষায় প্রায়শই এই পার্থক্যটি জিজ্ঞাসা করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ ভেক্টর এবং তাদের দ্বারা বাহিত রোগসমূহ

নিচে একটি সারণির মাধ্যমে প্রধান ভেক্টর এবং তাদের দ্বারা বাহিত রোগগুলির তালিকা দেওয়া হলো।

ভেক্টরের নাম ভেক্টরের ধরণ বাহিত রোগের নাম জীবাণুর নাম ও ধরণ বিশেষ তথ্য
স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা মশা (পতঙ্গ) ম্যালেরিয়া (Malaria) Plasmodium (প্রোটোজোয়া) শুধুমাত্র স্ত্রী মশা রক্ত পান করে কারণ ডিম পাড়ার জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়। পুরুষ মশা গাছের রস খায়।
স্ত্রী এডিস মশা (Aedes aegypti) মশা (পতঙ্গ) ডেঙ্গু (Dengue) ফ্ল্যাভিভাইরাস (ভাইরাস) পরিষ্কার জমা জলে ডিম পাড়ে। দিনের বেলায় কামড়ায়। এদের শরীরে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে বলে এদের 'টাইগার মশা'ও বলে।
চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) টোগাভাইরাস (ভাইরাস)
পীতজ্বর (Yellow Fever) ফ্ল্যাভিভাইরাস (ভাইরাস)
জিকা (Zika) জিকা ভাইরাস (ভাইরাস)
স্ত্রী কিউলেক্স মশা মশা (পতঙ্গ) ফাইলেরিয়াসিস বা গোদ (Filariasis) Wuchereria bancrofti (কৃমি) সাধারণত নোংরা বা দূষিত জলে ডিম পাড়ে।
জাপানি এনকেফেলাইটিস (Japanese Encephalitis) ফ্ল্যাভিভাইরাস (ভাইরাস)
বেলেমাছি (Sandfly) মাছি (পতঙ্গ) কালাজ্বর (Kala-azar / Leishmaniasis) Leishmania donovani (প্রোটোজোয়া) স্যাঁতস্যাঁতে ও অন্ধকার জায়গায় থাকে।
সেটসি মাছি (Tsetse fly) মাছি (পতঙ্গ) আফ্রিকান ঘুম রোগ (Sleeping Sickness) Trypanosoma (প্রোটোজোয়া) মূলত আফ্রিকায় পাওয়া যায়।
সাধারণ মাছি (Housefly) মাছি (পতঙ্গ) কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, যক্ষ্মা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া এটি একটি যান্ত্রিক বাহক
ইঁদুর ও ইঁদুরের মাছি (Rat Flea) মাছি (পতঙ্গ) প্লেগ (Plague) Yersinia pestis (ব্যাকটেরিয়া) ইঁদুরের দেহে থাকা মাছি মানুষের দেহে এসে রোগ ছড়ায়।
ছারপোকা (Bedbug) পতঙ্গ চাগাস রোগ (Chagas Disease) Trypanosoma cruzi (প্রোটোজোয়া)
হার্ড টিক (Hard Tick) সন্ধিপদী লাইম ডিজিজ (Lyme Disease) Borrelia burgdorferi (ব্যাকটেরিয়া)

ভেক্টর নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব

যেহেতু অনেক মারাত্মক রোগ ভেক্টরের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই রোগ প্রতিরোধ করতে ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভেক্টর নিয়ন্ত্রণের কিছু সাধারণ উপায় হলো:

  1. পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ: মশার প্রজননস্থল, যেমন জমা জল, পরিষ্কার করা। আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করে মাছির বংশবৃদ্ধি রোধ করা।
  2. রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ: মশা মারার স্প্রে (কীটনাশক), লার্ভিসাইড (লার্ভা ধ্বংসকারী) ইত্যাদি ব্যবহার করা।
  3. জৈবিক নিয়ন্ত্রণ: গাপ্পি বা তেচোখা মাছের মতো প্রাণী জলে ছেড়ে দেওয়া, যারা মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে।
  4. ব্যক্তিগত সুরক্ষা: মশারির ব্যবহার, মশা তাড়ানোর ধূপ বা লোশন ব্যবহার করা এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরা।

ভেক্টর সম্পর্কিত এই তথ্যগুলি ভালোভাবে মনে রাখলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রোগ সংক্রান্ত অনেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হবে।