আরে! স্নায়ুতন্ত্র আর মস্তিষ্ক নিয়ে এতগুলো প্রশ্ন! দারুণ তো! চলুন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলো নিয়েই একটা গল্প বানিয়ে ফেলি।
আমাদের এই বিশাল স্নায়ুর রাজ্যের মূল কারিগর বা গঠনগত একক কে জানেন? সে হলো নিউরন (প্রশ্ন ১)। এই নিউরন হলো আমাদের শরীরের 'ইলেকট্রিক তার'। এর একটা লম্বা হাত আছে, যার নাম অ্যাক্সন (প্রশ্ন ২), যেটা খবরকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। ভাবুন তো, আমাদের গুরুমস্তিষ্কের বাইরের স্তরেই প্রায় ১০ শত কোটি এমন কারিগর বসে আছে (প্রশ্ন ৭)!
দুটো নিউরন যেখানে একে অপরের সাথে কথা বলে, সেই জায়গাটাকে বলে সাইন্যাপস। মজার ব্যাপার হলো, এখানে কথা হয় শুধু একদিকেই, মানে খবরের প্রবাহ সবসময় একমুখী (প্রশ্ন ২৪)। আর এই কথা বলার জন্য ওরা এক ধরনের রাসায়নিক দূত ব্যবহার করে, যাদের বলে নিউরোট্রান্সমিটার। যেমন ধরুন, অ্যাসিটাইলকোলিন। এই দূতটির খোঁজ প্রথম পেয়েছিলেন বিজ্ঞানী অটো লোইউই (প্রশ্ন ১১)। তবে সব রাসায়নিকই কিন্তু দূত নয়, যেমন কর্টিসন আসলে একটা হরমোন, সে এই দলে পড়ে না (প্রশ্ন ১২)।
এবার আসি স্নায়ুদের কথায়। আমাদের শরীরে দুই ধরনের প্রধান রাজপথ আছে – একটা মাথা থেকে বেরোয়, আরেকটা শিরদাঁড়া থেকে।
মাথা থেকে যেগুলো বেরোয়, সেই করোটি স্নায়ু হলো ১২ জোড়া (প্রশ্ন ২২ এবং মস্তিষ্ক ১৮)। এদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা কাজ আছে।
আর শিরদাঁড়া থেকে বেরোনো সুষুম্না স্নায়ু আছে মোট ৩১ জোড়া (মস্তিষ্ক ১৭)।
এবার চলুন আসল কন্ট্রোল রুমে, মানে মস্তিষ্কে! এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটা মেনিনজেস নামের তিন স্তরের একটা পর্দায় ঢাকা থাকে (মস্তিষ্ক ১)। এর গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি (মস্তিষ্ক ২)।
মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে উন্নত আর বুদ্ধিমান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম (মস্তিষ্ক ১২, ১৯)। আমাদের সব চিন্তা-ভাবনা, বুদ্ধি (মস্তিষ্ক ৮) সবকিছুর কেন্দ্র এটাই। এটা এতই বড় যে এর আর লঘুমস্তিষ্কের আয়তনের অনুপাত প্রায় ৮:১ (প্রশ্ন ৮)। এর দুটো অংশকে (ডান ও বাম গোলার্ধ) শক্ত করে জুড়ে রাখে করপাস ক্যালোসাম (মস্তিষ্ক ৭, ২০)।
আমাদের হাঁটাচলার সময় শরীরের ভারসাম্য রক্ষার গুরুদায়িত্বে আছে লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম (মস্তিষ্ক ১৪, ১৬), যা পশ্চাদমস্তিষ্কের একটা অংশ (মস্তিষ্ক ১৫)।
আর আমাদের রাগ, লজ্জা, ভয়, আনন্দের মতো আবেগগুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে? এর জন্য আছে থ্যালামাস (মস্তিষ্ক ১০) আর হাইপোথ্যালামাস (মস্তিষ্ক ১১)।
মস্তিষ্কের ভেতরে চারটে প্রকোষ্ঠে (মস্তিষ্ক ৫) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) নামে এক বিশেষ তরল সাঁতার কাটে, যার পরিমাণ প্রায় ১৫০ মিলি (প্রশ্ন ১৮)। এই তরল তৈরি হয় করোয়েড প্লেক্সাস থেকে (প্রশ্ন ১৯) আর এর pH প্রায় ৭.৩৩ (প্রশ্ন ১৭)। যদি এটা কোনো কারণে বেড়ে যায়, তখন যে রোগটা হয় তার নাম হাইড্রোসেফালাস (প্রশ্ন ২০)।
কিছু কাজ আছে যা আমরা ভাবার আগেই হয়ে যায়, যেমন হাঁচি বা কাশি। এগুলোকে বলে প্রতিবর্ত ক্রিয়া। বেশিরভাগ সময় এগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকে আমাদের শিরদাঁড়ার ভেতরের সুষুম্নাকাণ্ডের হাতে (প্রশ্ন ১৫)। কিছু ক্রিয়া আমরা জন্ম থেকেই পারি, যেমন শিশুর স্তন্য পান করা, এটা সহজাত (প্রশ্ন ১৪)। আবার কিছু আমাদের শিখতে হয়, যেমনটা বিজ্ঞানী প্যাভলভ তার কুকুরের পরীক্ষা করে দেখিয়েছিলেন (প্রশ্ন ১৬)। তবে কাঁদা কিন্তু কোনো প্রতিবর্ত ক্রিয়া নয়, ওটা আমাদের আবেগ (প্রশ্ন ১৩)।
আর আমাদের শরীরের ভেতরের কিছু কাজ, যেমন ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্রমসংকোচন (প্রশ্ন ২৫), এগুলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র নিজের খেয়ালে চালিয়ে যায়, আমাদের কিছুই ভাবতে হয় না।