পরিমাপ (Measurement)

প্রশ্ন: পরিমাপ কাকে বলে?
উত্তর: পূর্বনির্দিষ্ট বা স্বীকৃত নিয়মের ভিত্তিতে কোনো প্রাকৃতিক বিষয়ের প্রতি সংখ্যা আরোপ করার পদ্ধতিকেই পরিমাপ বলা হয়।

পরিমাপের ফলাফল = সাংখ্যমান × একক
উদাহরণ: ৫ কিগ্রা (এখানে ৫ হল সাংখ্যমান এবং কিগ্রা হল একক)।

ভৌতরাশি (Physical Quantity)

প্রশ্ন: ভৌতরাশি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: পরিমাপযোগ্য যে-কোনো প্রাকৃতিক বিষয়কেই সাধারণভাবে ভৌতরাশি বা প্রাকৃতিক রাশি বলা হয়।
উদাহরণ: একটি পাত্রে রাখা জলের ভর, আয়তন, ঘনত্ব, উষ্ণতা ইত্যাদি প্রতিটিই ভৌতরাশি, কারণ এগুলিকে পরিমাপ করা সম্ভব।

প্রশ্ন: ভৌতরাশির শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর: মান ও অভিমুখের ওপর নির্ভর করে ভৌতরাশিকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:

  • স্কেলার রাশি (Scalar Quantity)
  • ভেক্টর রাশি (Vector Quantity)

স্কেলার ও ভেক্টর রাশির সংজ্ঞা ও উদাহরণ

১. স্কেলার রাশি (Scalar Quantity):

সংজ্ঞা: যেসব ভৌতরাশিকে প্রকাশ করার জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়, কোনো অভিমুখের প্রয়োজন হয় না, তাদের স্কেলার রাশি বলে।

  • উদাহরণ: ভর, দৈর্ঘ্য, সময়, কার্য, শক্তি, উষ্ণতা, দ্রুতি, চাপ, আয়তন, তড়িৎপ্রবাহমাত্রা ইত্যাদি।
২. ভেক্টর রাশি (Vector Quantity):

সংজ্ঞা: যেসব ভৌতরাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও অভিমুখ উভয়েরই প্রয়োজন হয় এবং যাদের যোগ বা বিয়োগ সাধারণ বীজগাণিতিক নিয়মে করা যায় না, ভেক্টর বীজগণিতের সূত্র মেনে চলে, তাদের ভেক্টর রাশি বলে।

  • উদাহরণ: সরণ, বেগ, ত্বরণ, মন্দন, বল, ওজন, ভরবেগ, তড়িৎক্ষেত্র প্রাবল্য, চৌম্বক আবেশ ইত্যাদি।

স্কেলার ও ভেক্টর রাশির মধ্যে পার্থক্য

বৈশিষ্ট্য স্কেলার রাশি ভেক্টর রাশি
সংজ্ঞা শুধুমাত্র মান আছে, অভিমুখ নেই। মান ও অভিমুখ দুই-ই আছে।
পরিবর্তন শুধুমাত্র মানের পরিবর্তনে এই রাশির পরিবর্তন ঘটে। মান বা অভিমুখ অথবা উভয়ের পরিবর্তনে এই রাশি পরিবর্তিত হয়।
যোগ/বিয়োগ সাধারণ বীজগাণিতিক নিয়মে যোগ বা বিয়োগ করা হয়। ভেক্টর বীজগণিতের নির্দিষ্ট সূত্র (যেমন: ত্রিভুজ সূত্র, সামান্তরিক সূত্র) অনুযায়ী যোগ বা বিয়োগ করতে হয়।
গুণফল দুটি স্কেলার রাশির গুণফল সর্বদা একটি স্কেলার রাশি হয়। দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি স্কেলার রাশি (স্কেলার গুণন) অথবা একটি ভেক্টর রাশি (ভেক্টর গুণন) হতে পারে। যেমন: কার্য (স্কেলার) = বল (ভেক্টর) × সরণ (ভেক্টর)

একক (Unit)

প্রশ্ন: ভৌতরাশির একক কাকে বলে?
উত্তর: কোনো ভৌতরাশি পরিমাপ করার সময় ওই রাশিটির একটি নির্দিষ্ট ও সুবিধাজনক পরিমাণকে প্রমাণ (Standard) হিসেবে ধরা হয়। এই নির্দিষ্ট প্রমাণ মানকেই ওই ভৌতরাশিটির একক বলে।

প্রশ্ন: এককের প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর:

  1. প্রতিটি ভৌতরাশি সঠিকভাবে পরিমাপের জন্য একক অপরিহার্য। একক ছাড়া পরিমাপ অর্থহীন।
  2. বিভিন্ন ভৌতরাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য এককের প্রয়োজন।

প্রশ্ন: একক কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: একক প্রধানত দুই প্রকার:

  • প্রাথমিক বা মূল একক:
    • উদাহরণ: দৈর্ঘ্য (মিটার), ভর (কিলোগ্রাম) ও সময় (সেকেন্ড)-এর একক।
  • লব্ধ একক:
    • উদাহরণ: ক্ষেত্রফলের একক (মিটার²), বেগের একক (মিটার/সেকেন্ড)।

একক পদ্ধতি (System of Units)

প্রশ্ন: একক পদ্ধতি কাকে বলে? এটি কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: মূল এককগুলির ওপর ভিত্তি করে ভৌতরাশি পরিমাপের জন্য যে সম্পূর্ণ ব্যবস্থা বা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তাকে একক পদ্ধতি বলে।

এটি মূলত চার প্রকার:

  1. CGS পদ্ধতি (সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড)
  2. FPS পদ্ধতি (ফুট-পাউন্ড-সেকেন্ড)
  3. MKS পদ্ধতি (মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড)
  4. SI বা আন্তর্জাতিক পদ্ধতি (MKS পদ্ধতির উন্নত রূপ)।