CLASS NO: 02
অভিব্যক্তি ও অভিযোজন: সহজে মনে রাখার সেরা উপায় (সকল প্রশ্নোত্তর সহ)
চলুন, বিবর্তনের পুরো গল্পটা কয়েকটি ধাপে মনে রাখি।
ধাপ ১: গল্পের প্রধান চরিত্র (বিজ্ঞানীরা ও তাদের মতবাদ)
চারজন বিজ্ঞানীর নাম ও তাদের কাজ মনে রাখলেই অর্ধেক কাজ শেষ!
- ল্যামার্ক (Lamarck): "চেষ্টার ফল"
- মূল কথা: ল্যামার্ক বিশ্বাস করতেন, জীবেরা চেষ্টা করে নিজেদের বদলাতে পারে এবং সেই বদল পরের প্রজন্মে চলে যায়।
- বইয়ের নাম: ফিলোজফি জুওলজিক (প্রশ্ন ৪)
- দুটি সূত্র:
- ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র: যে অঙ্গ বেশি ব্যবহার হবে, সেটা উন্নত হবে। যেটা হবে না, সেটা হারিয়ে যাবে। (প্রশ্ন ৬)
- অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার: জিরাফ গলা লম্বা করার চেষ্টা করে সফল হয়েছিল এবং তার বাচ্চারাও লম্বা গলা পেয়েছিল। (প্রশ্ন ১১)
- মনে রাখবেন: ল্যামার্ক মানেই চেষ্টা আর অর্জিত গুণ।
- ডারউইন (Darwin): "যোগ্যরাই টিকবে"
- মূল কথা: ডারউইন বললেন, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চলে। প্রকৃতি নিজেই যোগ্যদের বেছে নেয়।
- বইয়ের নাম: On the Origin of Species... (প্রশ্ন ২) এবং The Descent of Man (প্রশ্ন ১৭)
- তত্ত্বের মূল ভিত্তি:
- জীবন সংগ্রাম: বেঁচে থাকার জন্য লড়াই (খাদ্য, বাসস্থান, পরিবেশের সাথে)। (প্রশ্ন ৮)
- প্রাকৃতিক নির্বাচন: প্রকৃতি যোগ্যদের "select" করে। একেই বিভেদমূলক প্রজনন বলে। (প্রশ্ন ১৫)
- সীমাবদ্ধতা: তিনি প্রকরণের কারণ (মিউটেশন) ব্যাখ্যা করতে পারেননি, তাই মিউটেশনকে "প্রকৃতির খেলা" বলে এড়িয়ে গেছেন। (প্রশ্ন ৭) নিষ্ক্রিয় অঙ্গের কারণও বলতে পারেননি। (প্রশ্ন ১৪)
- মনে রাখবেন: ডারউইন মানেই সংগ্রাম আর প্রকৃতির পছন্দ। তিনিই অভিব্যক্তির জনক। (প্রশ্ন ১৬)
- হুগো দ্য ভ্রিস (Hugo de Vries): "হঠাৎ পরিবর্তন"
- মূল কথা: ডারউইন যা পারেননি, দ্য ভ্রিস তা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, জীবে হঠাৎ বড় পরিবর্তন আসে, যাকে মিউটেশন বলে। এটাই প্রকরণের মূল কারণ। (প্রশ্ন ৩, ২২)
- হেকেল (Haeckel): "ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি"
- মূল কথা: তিনি বায়োজেনেটিক সূত্র দেন। এর সহজ অর্থ হলো, একটি জীবের ভ্রূণ তার পূর্বপুরুষদের বিবর্তনের ইতিহাসকে সংক্ষেপে দেখায়। (প্রশ্ন ১)
ধাপ ২: গল্পের প্রমাণ (বিবর্তনের প্রমাণগুলো কী কী?)
আমরা কীভাবে বুঝব বিবর্তন হয়েছে? এর জন্য কিছু প্রমাণ আছে।
ক) অঙ্গের প্রমাণ (শরীরের গঠন দেখে বোঝা):
- সমসংস্থ অঙ্গ: গঠন এক, কিন্তু কাজ আলাদা।
কৌশল: ভাবুন, একই প্ল্যান দিয়ে আলাদা আলাদা বাড়ি বানানো হয়েছে।
উদাহরণ: মানুষের হাত, ঘোড়ার পা, তিমির প্যাডেল—সবার ভেতরের হাড়ের গঠন একই, কিন্তু কাজ ভিন্ন। (প্রশ্ন ১৯)
- সমবৃত্তীয় অঙ্গ: কাজ এক, কিন্তু গঠন আলাদা।
কৌশল: ভাবুন, আলাদা আলাদা প্ল্যান দিয়ে একই রকম দেখতে বাড়ি বানানো হয়েছে।
উদাহরণ: পাখির ডানা আর পতঙ্গের ডানা—দুটোই ওড়ার কাজে লাগে, কিন্তু গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন। (প্রশ্ন ১২, ২০)
- লুপ্তপ্রায় অঙ্গ: আগে কাজে লাগত, এখন লাগে না।
উদাহরণ: মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স, চোখের কোণের পর্দা (নিকটিটেটিং পর্দা)। (প্রশ্ন ৯)
খ) জীবন্ত প্রমাণ (দুটি যুগের যোগসূত্র):
- সংযোগরক্ষাকারী প্রাণী: দুটি ভিন্ন গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং এখনও বেঁচে আছে।
পেরিপেটাস: অঙ্গুরীমাল (কেঁচো) + সন্ধিপদী (আরশোলা) পর্বের যোগসূত্র। (প্রশ্ন ১০, ২১)
ইউগ্লিনা: উদ্ভিদ (সালোকসংশ্লেষ করে) + প্রাণী (চলাচল করে) জগতের যোগসূত্র। (প্রশ্ন ১৮)
- মিসিং লিঙ্ক: দুটি ভিন্ন গোষ্ঠীর যোগসূত্র ছিল, কিন্তু এখন বিলুপ্ত (শুধু জীবাশ্ম আছে)।
আর্কিওপটেরিক্স: সরীসৃপ + পাখি। এটিই প্রাচীনতম পাখি। (প্রশ্ন ২৩, ২৪)
ধাপ ৩: গল্পের সময়কাল (কবে কী ঘটেছিল?)
- পৃথিবীর জন্ম: প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে। (প্রশ্ন ৫)
- মেসোজোইক যুগ: এটি ছিল সরীসৃপের যুগ। এই যুগেই ডাইনোসররা ছিল। (প্রশ্ন ২৭)
- ডাইনোসরের বিলুপ্তি: মেসোজোইক যুগের শেষ পর্ব ক্রিটেসিয়াস-এ ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়। (প্রশ্ন ২৯)
- সিনোজোইক যুগ: এটি মানুষ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর যুগ। (প্রশ্ন ২৮)
- আধুনিক ঘোড়া: ইকুয়াস (Equus)। (প্রশ্ন ২৫)
- আধুনিক মানুষ: প্রায় ২৫,০০০ বছর আগে (প্রদত্ত বিকল্প অনুযায়ী)। (প্রশ্ন ২৬)
এক নজরে সব মনে রাখার কৌশল:
- ল্যামার্ক: চেষ্টা → অর্জিত গুণ → ফিলোজফি জুওলজিক
- ডারউইন: সংগ্রাম → প্রাকৃতিক পছন্দ → অরিজিন অব স্পিসিস
- হেকেল: বায়োজেনেটিক সূত্র (ভ্রূণের ইতিহাস)
- দ্য ভ্রিস: মিউটেশন (প্রকরণের কারণ)
- সমসংস্থ অঙ্গ: গঠন এক, কাজ আলাদা (মানুষের হাত, ঘোড়ার পা)
- সমবৃত্তীয় অঙ্গ: কাজ এক, গঠন আলাদা (পাখি ও পতঙ্গের ডানা)
- মিসিং লিঙ্ক: আর্কিওপটেরিক্স (সরীসৃপ + পাখি)
- সরীসৃপের যুগ: মেসোজোইক
- স্তন্যপায়ীর যুগ: সিনোজোইক