অধ্যায়: বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem)

দিন/রাত

CLASS NO: 01

ভূমিকা

আমাদের চারপাশে থাকা সজীব ও জড় উপাদান একে অপরের উপর নির্ভরশীল এবং এদের মধ্যে অনবরত শক্তি ও পদার্থের আদানপ্রদান চলে। জীবমন্ডলের যে কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায় (Biotic Community) এবং সেখানকার জড় পরিবেশের (Abiotic Environment) পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ার মাধ্যমে যে কার্যকরী একক গঠিত হয়, তাকে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বলে।

১. বাস্তুতন্ত্রের উপাদান (Components of Ecosystem)

বাস্তুতন্ত্রের উপাদানগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:

  1. জড় উপাদান (Abiotic Components)
  2. সজীব উপাদান (Biotic Components)

(ক) জড় উপাদান (Abiotic Components)

পরিবেশের প্রাণহীন বা জড় উপাদানগুলিকে একত্রে জড় উপাদান বলা হয়। এগুলি তিন প্রকারের হয়:

(খ) সজীব উপাদান (Biotic Components)

বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত জীবন্ত উপাদানকে একত্রে সজীব উপাদান বলে। পুষ্টির প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে এদের তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:

২. বাস্তুতন্ত্রের কার্যকারিতা (Functions of Ecosystem)

(ক) খাদ্যশৃঙ্খল (Food Chain)

বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক থেকে শক্তি যখন বিভিন্ন খাদকের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানান্তরিত হয়, তখন সেই সরলরৈখিক পথকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

উদাহরণ: ঘাস (উৎপাদক) → ঘাসফড়িং (প্রাথমিক খাদক) → ব্যাঙ (গৌণ খাদক) → সাপ (প্রগৌণ খাদক) → ময়ূর (সর্বোচ্চ খাদক)।

(খ) খাদ্যজাল (Food Web)

কোনো বাস্তুতন্ত্রে একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল যখন সম্পর্কযুক্ত হয়ে একটি জালের মতো গঠন তৈরি করে, তখন তাকে খাদ্যজাল বলে। খাদ্যজাল খাদ্যশৃঙ্খলের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল।

(গ) পুষ্টিস্তর (Trophic Level)

খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপকে পুষ্টিস্তর বলে।

(ঘ) শক্তিপ্রবাহ (Energy Flow)

(ঙ) ইকোলজিক্যাল পিরামিড (Ecological Pyramid)

বাস্তুতন্ত্রের পুষ্টিস্তরগুলিকে পর্যায়ক্রমে সাজালে যে পিরামিড আকৃতির কাঠামো তৈরি হয়, তাকে ইকোলজিক্যাল পিরামিড বলে। এর ধারণা দেন বিজ্ঞানী চার্লস এলটন (Charles Elton)। এটি তিন প্রকারের:

  1. সংখ্যার পিরামিড (Pyramid of Numbers): এটি সাধারণত সোজা (Upright) হয়। তবে পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খলে (যেমন একটি গাছে অনেক পাখি) এটি উল্টানো (Inverted) হয়।
  2. জীবভরের পিরামিড (Pyramid of Biomass): এটিও সাধারণত সোজা হয়। তবে জলজ বাস্তুতন্ত্রে এটি উল্টানো হয়, কারণ উৎপাদক ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের মোট জীবভর খাদক জুপ্ল্যাঙ্কটনের চেয়ে কম।
  3. শক্তির পিরামিড (Pyramid of Energy): শক্তির পিরামিড সর্বদা সোজা (Always Upright) হয়, কারণ প্রতিটি পুষ্টিস্তরে শক্তি কমে যায়।

(চ) জৈব-ভূ-রাসায়নিক চক্র (Biogeochemical Cycle)

যে চক্রাকার পথে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান (যেমন- কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস) জীবদেহ থেকে পরিবেশে এবং পরিবেশ থেকে পুনরায় জীবদেহে আবর্তিত হয়, তাকে জৈব-ভূ-রাসায়নিক চক্র বলে। এর মাধ্যমে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।